০৩ এপ্রিল ২০২৬ , ২০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬

বিএনপি জনগণের কাছে দেওয়া ওয়াদা লঙ্ঘন করেছে- ডা. শফিকুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপলোড সময় : ০৩-০৪-২০২৬
বিএনপি জনগণের কাছে দেওয়া ওয়াদা লঙ্ঘন করেছে- ডা. শফিকুর রহমান
গণভোটের প্রস্তাব বিএনপি দিলেও দুই/তৃতীয়াংশ আসন পেয়ে রাতারাতি মত বদলিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি। তিনি বলেন, বিএনপি তাদের দায়িত্ব পালন করেনি বলে সংকট তৈরি হয়েছে। তারা জনগণের কাছে দেওয়া ওয়াদা লঙ্ঘন করেছে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিকেলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা জেলা আয়োজিত দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের নাফিস কনভেনশন সেন্টারে এক দায়িত্বশীল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আপনারা বলেন- স্বার্বভৌমত্ব জনগণের। এদেশের মালিক জনগণ। কোথায়? জনগণকে আপনারা গুরুত্ব দিচ্ছেন না। এই জনগণইতো ফেব্রুয়ারি মাসের ১২তারিখ দুইটা ভোট দিয়েছিল। একটা জাতীয় সংসদে, আর একটা গণভোটে ‘হ্যাঁ’। আপনারা ভিতরে ভিতরে না ছিলেন, কিন্তু প্রকাশ্যে আপনারাও হ্যাঁ বলেছিলেন। আপনারা এখন বলছেন জনগণ আপনাদের ৫১ পারসেন্ট ভোট দিয়েছে। ওখানে যে জনগণ ৭০ পারসেন্ট ভোট দিয়েছে। ৫১ বড় না ৬৮ বড়? আপনি ৬৮ ভাগ জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করছেন। এর নাম গণভোট? সরকারের উদ্দেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, উনারা বলছেন সংবিধানে গণভোট নাই। আমাদের প্রশ্ন এই দলটির জন্ম যার হাতে, তার হাতেই প্রথম বাংলাদেশে গণভোট হয়েছিল। তখন কি সংবিধানে গণভোট ছিল? তখন যদি গণভোট জায়েজ হয়ে থাকে, এখন না জায়েজ হয় কিভাবে? জনগণ হলো সংবিধানেও ওপরে সুপ্রিম অথরিটি। জনগণের সুপ্রিম অভিপ্রায়ই হচ্ছে চূড়ান্ত সংবিধান। এরশাদ সাহেব একটা করেছেন, সেটা নিয়ে কথা ওঠেনি। এরপর করেছেন বেগম খালেদা জিয়া। তিনটা গণভোট হয়েছে। চতুর্থ গণভোট। এখানে বিভিন্ন দল ছিল, মত ছিল। সবাই মিলে একমত। সবার আগে বিএনপির প্রতিনিধিই বলেছিলেন, সংস্কার প্রস্তাবগুলো আইনগতভাবে বাস্তবায়ন করতে হলে গণভোটের প্রস্তাব দিচ্ছি। প্রস্তাব দিলেন গণভোটের। এরপরে যখন দেখলেন যে আপনারা যেভাবেই হোক দুই/তৃতীয়াংশের বেশি হয়ে গেছেন। তখন রাতারাতি আপনাদের মত বদলে গেলো। আমরাতো আমাদের জায়গায় আছি। তেল সংকটের বিষয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাইক চালকরা বলছে আগে ৭/৮ ঘণ্টা দৌড়াদৌড়ি করতে পারতাম, এখন তেলের কারণে ৩ঘণ্টাও চালাতে পারি না। জনজীবনের সকল ক্ষেত্রে এই দুঃসহ যাতনা নেমে এসেছে। আর সরকার জাতিকে বলছে তেলের কোনো অভাব নেই। এটা অবশ্য সত্যি, তেলের অভাব কার জন্য নেই, সেটা বলেনি। কারও ঘরে ড্রাম ভর্তি করে, বাঁশ ঝাড়ে বিভিন্ন জায়গায় তেল রেখে দিয়েছে। পাম্পে গেলে তেল পাওয়া যায় না, লেখা আছে তেল নেই। কিন্তু ওখানে গেলে তেল পাওয়া যায়। ১২০ টাকা দামের তেল ওখানে ৩০০টাকায় পাওয়া যায়। এটা লজ্জার ব্যাপার। সরকার কেন সবাইকে নিয়ে খোলামনে বসছে না? বাস্তব অবস্থা কেন তুলে ধরছে না। আমরা সবাই এই সংকট নিরসনের অংশিদার হতে চাই। আমরা সংকট সৃষ্টি করতে চাই না। কিন্তু কি জানি সরকার একটা লুকোচুরি খেলছে। কেন এই অস্পষ্টতা। তিনি বলেন, আমরা সরকারকে আহবান জানাব আপনারাই বলেছেন, সবাই মিলে বাংলাদেশ, সবার আগে বাংলাদেশ, মিলে ঝিলে বাংলাদেশ। তা কোথায় সবাই মিলে বাংলাদেশ? তাতো দেখতে পাচ্ছি না। ইতোমধ্যেই সবাই মিলে বাংলাদেশ চাপটার আউট হয়ে যাচ্ছে। আপনারা দেখেছেন ইনট্রিম সরকার বা তার আগেও এরকম প্রশাসকের ছড়াছড়ি ছিল না। এখন সব জায়গায় প্রশাসক বসিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সিটি করপোরেশন, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ। পর্যায়ক্রমে আরও নীচে যাবে কিনা উই ডোন্ট নো। এমনিতেই এটা হওয়া উচিত নয়। সাংবিধানিকভাবে এটা বেআইনি। সংবিধানে লেখা আছে, বাংলাদেশের সকল স্তরের স্থানীয় সরকারে শুধুমাত্র নির্বাচিতরাই দায়িত্ব পালন করবে। আপনারা সব জায়গায় সব দলের লোক প্রশাসক বসিয়ে দিচ্ছেন। কেউ কেউ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। জনগণ তাদের ম্যান্ডেট দেয়নি। এখন তাদের আও বড় জায়গায় বসিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকারি দলকে বলব এখনো সময় হাতছাড়া হয়ে যায়নি। আমরা চেয়েছিলাম সংসদের ভেতরে সমাধান করতে। আপনারা সুযোগ গ্রহণ করেননি। আমাদেরকে এই জনগণের রায় বাস্তবায়ন করার জন্য জনগণের কাছে আসতে বাধ্য করেছেন। যে জনগণ খালি হাতে সশস্ত্র দুর্বৃত্তদের মোকাবেলা করে ৫ আগস্ট পরিবর্তন এনেছিল, সেই জনগণের মৃত্যু হয়নি। সেই জনগণ এখনো জীবিত, জাগ্রত। বিশেষ করে আমাদের যুব সমাজ। তাদেরকে বলব, তোমরা তোমাদের ঈমানের হাতিয়ার আবার শানিত করো। জনগণের দাবি আমরা আদায় করে ছাড়ব।


কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ